Advertise
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৯
সর্বশেষ আপডেট :
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:০০
ক্ষমতায় বাইরে এক, ক্ষমতা গেলে ভিন্ন। দিলীপ বড়ুয়া জীবনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন ১৫৫২টি। ২০০৮ সালে তো নির্বাচনই করতে পারেননি। পরে টেকনোক্রেট কোটায় শিল্প মন্ত্রী হয়েছিলেন।
.
অন্যদিকে জোনায়েদ সাকিরও একই অবস্থা। ২ হাজার ভোট পাবেন কিনা সন্দেহ। ভাগ্যক্রমে বিএনপির জোট হওয়ায় ভাগ্যক্রমে এমপি হয়ে গেলেন। সঙ্গে পেলেন মন্ত্রিত্বও।
.
সারাজীবন শ্রমিকের দাবী দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ, সমাবেশ, মিটিং মিছিল করে শেষবেলায় ক্ষমতায় গিয়ে চুপ। তাদের বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি নামে শ্রমিক অধিকার সংগঠনও রয়েছে। অথচ তারাই কিনা এখন আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বলছেন আওয়ামী লীগের দোসর। তাঁর সংগঠনের ভাষ্যও একই। মানে কিছু হলেই বিরোধীদের দোষ। অথচ আজীবন তাদের বেচেই খেয়েছে।
.
কমিউনিস্ট পার্টি থেকে আট ভাঙনের পর (১৯৬৭,১৯৭২, ১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৮৫ এবং ২০০৯) দিলীপ বড়ুয়ার সাম্যবাদী দল দাঁড়িয়েছিলো। দিলীপ বড়ুয়া শেখ হাসিনার মন্ত্রী হয়েছিলেন। এ জন্য তার নিজের দলই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল। অবশ্য তাদের ন্যূনতম আদর্শ ছিল।
.
শেখ হাসিনা নাকি তার কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে দিলীপ বড়ুয়াকে কম হুমকি বলে মনে করতো। এ কারণেই বামপন্থী বহু সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে দিলীপ বড়ুয়াকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
.
অথচ ক্ষমতায় থাকার সময় দুর্নীতি, অরাজকতা নিয়ে টু শব্দটুকুও করেনি। ক্ষমতায় থাকার সময় দিলীপ বড়ুয়া দেশজুড়ে অরাজকতা, শ্রমিক আন্দোলন সহ সবকিছুতেই বিরোধী দলকে দায়ী করতেন। ক্ষমতাসীনদের কোন ডায় নেই। উল্টো সাফাই গাইতেন।
.
অথচ যেই না ক্ষমতা থেকে নামতেই বলা শুরু করলেন ‘অতীতের যে কোনো সরকার এবং অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বিভিন্ন সেক্টরে লুটপাট বেড়েছে!’
.
অন্যদিকে বাকি সব তো আছে। শুধু একটা বলি। বছরের পর বছর জুড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এতো হাঙ্গামা, হেফাজতের তাণ্ডবলীলা চলেছে। পুরো একটা জনপদকে উগ্রবাদীরা কি করেছে তা সবাই দেখেছে। অথচ ঐ বিষয়েও জোনায়েদ সাকি আশ্চর্যজনকভাবে নিশ্চুপ ছিলেন। কারণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এমপি তিনি। বললে যদি হুজুররা চটে।
.
অথচ আজীবন সেই মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধেই ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়েই হাপিস। লোকে বলেনা, 'ক্ষমতার পিঠা, বড়ই মিঠা।' আসলেই তাই।
দিলীপ বড়ুয়া পীর হলে, সাকি তার মুরিদ। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের এই এক চরিত্র।