Advertise
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:১৯
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে একমাত্র বোরো ধানের ওপর। বছরের এই এক ফসলই তাঁদের প্রধান আয়ের উৎস। অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সেই ধান তলিয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাওরপাড়ের মানুষ।
বরাম, চাপতি ও টাংনির হাওরসহ উপজেলার অধিকাংশ হাওরে পাকা ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। অনেক কৃষক ধান কাটার আগেই ফসল হারিয়েছেন। যাঁরা কেটেছেন, তাঁরা শুকাতে না পেরে খলায় রাখা ধান নষ্ট হতে দেখছেন। কোথাও খলায় পানি উঠে ধান ভেসে গেছে। শ্রমিক সংকট ও জমিতে অতিরিক্ত কাদার কারণে অনেক জায়গায় সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হয়নি। হারভেস্টার মেশিনও সবখানে ব্যবহার করা যায়নি। এতে জমিতে পেকে থাকা ধান কাটার আগেই পানিতে তলিয়ে গেছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাষাবাদের শুরুতেই তাঁদের অনেককে উচ্চ সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়। সেই ঋণ শোধ, সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ সবই নির্ভর করে এই এক ফসলের ওপর।
বরাম হাওরপাড়ের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ধার করে চাষ করি। ধান ভালো হলে ঋণ শোধ করি। এবার সব শেষ। কীভাবে ঋণ শোধ করব, বুঝতে পারছি না।
চাপতির হাওর এলাকার কৃষাণী ফুলতেরা বেগম বলেন, এই ধানই আমাদের সব। এখন ধান নেই, হাতে টাকা নেই। সংসার কীভাবে চলবে, জানি না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অতিবৃষ্টি নয়, কিছু এলাকায় অপরিকল্পিত বাঁধ ও পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থাপনাও জলাবদ্ধতা দীর্ঘায়িত করেছে। এতে ক্ষতির মাত্রা বেড়েছে।
টাংনির হাওরের কৃষক শাহ আলম বলেন, পানি নামার পথ না থাকায় জমিতে পানি আটকে আছে। কাটা ধানও নষ্ট হচ্ছে। ঋণ নিয়ে চাষ করেছি, এখন সবচেয়ে বিপদে আছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় প্রতিবছরই কোনো না কোনো কারণে হাওরের ফসল ঝুঁকিতে পড়ে। নদী, খাল ও বিল খনন এবং পরিকল্পিত বাঁধ ব্যবস্থাপনা ছাড়া এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
হাওরের বিস্তীর্ণ মাঠ এখন পানিতে ডুবে আছে। ভাসছে কাটা ধান। এক ফসলনির্ভর কৃষকদের চোখে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট। ঋণের চাপ ও সংসারের দুশ্চিন্তা মিলিয়ে দিরাইয়ের হাওরপাড়ে তৈরি হয়েছে নীরব সংকট।