Advertise
২৭ জুন, ২০২৬ ২৩:৫৩
শহিদুল জহিররে তৃতীয় শ্রেণীর লেখক কওয়ার সাহসটা আসলে সাহিত্যিক বিচারের জায়গা থেইকা আসে নাই, এইটা আসে এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক একচেটিয়া দাদাগিরি থেইকা। আর এই দাদাগিরির মূলে আছে আমরা বছরের পর বছর সলিমুল্লাহ খান আর ফরহাদ মজহারগোরে এমন এক উচ্চ আসনে বসাইয়া রাখছি, যেন উনাগো মুখ থেইকা যা পড়ে তাই চূড়ান্ত সত্য। ফলে সমালোচনা আর বিচার না, বরং বাণী হইয়া গেছে।
আমাগো ঢাকা শহরে কি সাহিত্য, কি বুদ্ধিজীবীতা, কি রাজনীতি, কি দর্শন সব কিছুই ছোট ছোট ঘরের ভিত্রে আটকাইয়া ফালাইছি। এই ধরেন ফরহাদ মজহারের ঘারানা, সলিমুল্লাহ খানের ঘারানা। আরো কিছু ছোটখাট দোকানপাট খোলা আছে। এগোর একেকজন অন্যজনেরে ছোট করতে এত শক্তি ব্যয় করে যে নিজেরা কিচ্ছুই করার টাইম পায় না। কাম খালি দুইডা, এক. এগোর পীররে পয়গম্বর বানানি, দুই. অন্য পয়গম্বররে গাইলানি আর বিষেদগার করা।
এরাই মুলত বাংলাদ্যাশের রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি, সাহিত্য সবকিছুর লাইগাই হুমকির। এগোর আবার রেইট আছে, ভিন্ন ভিন্ন দামে বেচাবিক্রিও হইয়া থাকে। সবকিছুর লেজিটিমিসি এরাই দেয়। তাই কেউ সিনেমা বানাইলে সবার আগে তাগো কাছে যাইয়া স্বীকৃতি নেয় আবার রাজনীতি করতে চাইলে দলনেতাগো যাইয়া পায়ে হাত দিয়া সালাম কইরা আসা লাগে। আর এই পন্ডিতগুলা তাগোরে তাগোর সুবিধামত ব্যবহার কইরা থাকে।
সমস্যা হইল, এই সমাজে বই পড়া মানুষ অনেক, কিন্তু বইয়ের বাইরের বাস্তবতা বুঝতে পারা সত্যিকারের সমালোচক কম। তাই একজন লোকের রায়রে আমরা পুরো সাহিত্য-রাজনীতির মানদণ্ড বানাই ফেলছি। এই অন্ধ ভক্তির কালচারে সাহিত্যচর্চা না, বরং ব্যক্তিপূজা জন্ম নেয়। আর ব্যক্তিপূজা যত বাড়ে, চিন্তার স্বাধীনতা তত মরে।
সলিমুল্লাহ খানর সবচেয়ে বড় সমস্যা হইল— উনি বিশ্লেষণের থেইকা ভঙ্গির জোরে প্রভাব তৈয়ার করেন। কথা এমনভাবে কন যেন ইতিহাসের শেষ আদালত বসাইয়া দিছেন। কিন্তু বাস্তবতা হইল, বড় বড় তত্ত্ব আওড়াইলেই কেউ নির্ভুল হয় না। উনারে ঘিরা যে বুদ্ধিজীবী বলয় তৈয়ার হইছে, সেইখানে প্রশ্ন করার সাহসটাই হারায়া গেছে।
আমাগো সাহিত্য-রাজনীতির ট্র্যাজেডি এইখানেই। আমরা এখনো সমালোচক খুঁজি না, আমরা খুঁজি অভিভাবক। তাই কেউ যখন একটা ফতোয়া দেয়, আমরা তা যাচাই না কইরাই মাথায় তুইলা নাচানাচি করি। এই মানসিক দাসত্ব ভাঙতে না পারলে নতুন চিন্তা জন্মাইবো না, নতুন সাহিত্যও দাঁড়াইবো না।
যেইদিন বুকিশ বুলি আর তাত্ত্বিক জবরদস্তির বাইরে সত্যিকারের নির্মোহ সমালোচক পাইমু, যেইদিন ব্যক্তি না, যুক্তিরে মানদণ্ড বানামু, সেইদিনই এই বুদ্ধিবৃত্তিক অভিশাপ থেইকা মুক্তি মিলবো। তার আগে পর্যন্ত ক্যাচাল চলবেই, আর সমালোচনার নামে ব্যক্তিগত ক্ষমতার খেলা চলতেই থাকবো।
সলিমখানের এই উষ্কানিরে স্বাগত জানাইলাম। অনেকদিন শহীদুল জহির পড়া হয় না। আবার পড়ার কোশেশ করুম।