Advertise
১০ অগাস্ট, ২০২৬ ২৩:৫৪
শহীদ মিনারে এক কিশোরের লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে ওরা। প্রথম আলোর একটা ভিডিও প্রতিবেদনে দেখলাম বলা হচ্ছে যে ছেলেটা একটা মাছের দোকানে কাজ করতো, শনিবার ছুটি নিয়েছিল। ফেসবুকে অনেকেই বলছেন ছেলেটা আওয়ামী লীগ করতো। দুটোই সত্যি হতে পারে। পনের বা ষোল বছর বয়সে যে ছেলেটাকে মাছের আড়তে কাজ করতে হয় দুইবেলা দুই মুঠ ভাতের জন্য, সেই ছেলে আওয়ামী লীগ করতেই পারে। আমি নিজেই ঐ বয়সে ছাত্র ইউনিয়ন করতাম, সিপিবির মিছিলে গেছি। ছেলেটাকে ওরা হত্যা করে শহীদ মিনারে ঝুলিয়ে রেখেছে গলায় দড়ি বেধে।
গতকাল প্রথম আলোর ভিডিও প্রতিবেদন দেখলাম, তখনই মনটা ইয়ে হয়ে গেছে কষ্টে, ক্রোধে। তখন কিছু লিখিনি ফেসবুকে, ভেবেছি এইরকম ক্রুদ্ধ মন নিয়ে কিছু লেখা ঠিক হবে না। কাল সকালে মুদ্রিত কাগজে বিস্তারিত পড়ে তারপর লিখব। আজ প্রথম আলোর মুদ্রিত কাগজে এই খবরটা দেখলাম না। ওর ছাপেনি, অথবা হয়তো এমন কোন চিপাচাপায় দিয়েছে খবরটা যে আমার আপনার চোখেই পড়বে না। কেন ভাই? প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে এতো বড় প্রতিবেদন করলেন, সেইটা একটু ছোট করে দিলেই হতো, দ্বিতীয় পাতায় এতো বড় করে সেটা না টানলেই তো জায়গা বেরিয়ে যেতো। এছাড়াও অনেক খবর আছে যেগুলি ছোট করা যেতো। ছাপেনি।
এমনিতেই আমাদের দেশে শিশু কিশোরদের উপর অত্যাচারের ধারা একটা চলমান আছে মাদ্রাসায়। ২৪শের আগস্টের পর সেটা বেড়েছে। নারীদের উপর অত্যাচার বেড়েছে একই সময় থেকে। আওয়ামী লীগ করে বা আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল এরকম ছেলেমেয়েদের হত্যা করা তো যেন বৈধ হয়ে গেছে। একটা ছেলে বা মেয়ে যপদি ছাত্রলীগ করে থাকে কখনো, ওকে পুলিশ গ্রেফতার করতে এক মুহূর্ত ভাবে না। কোন মামলা আছে কি নাই সেটার দরকার নাই। চলমান যে কোন মামলায় গ্রেফতার দেখালেই হয়। আদালতগুলিও ভিত সন্ত্রস্ত- ন্যায় করতে পারেনা।
এই সবকিছুর মধ্যেও এই ছেলেটার মৃত্যু যেন একটা ভিন্নরকম জ্বলন্ত ঘটনা। দৃশ্যত ওরা ছেলেটাকে হত্যা করে শহীদ মিনারে এনে ঝুলিয়ে দিয়েছে। শহীদ মিনারের মাঝখানের স্তম্ভটা, ছোটবেলায় যেটাকে মাতৃরূপ ভাবতাম, সেই স্তম্ভটাতে ছেলেটার মৃতদেহের গলায় দড়ি বেধে ঝুলিয়ে রেখেছে। এটা তো সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়, হতে পারে না। দেখেই মনে হয় কেউ যেন আমাদের সবাইকে হুমকি দিচ্ছে- আমরা যারা বাঙালী বাঙালী করি, শহীদ মিনারকে বাঙালীর জাতিসত্বার সংগ্রামের প্রতীক মনে করি, যেন আমাদেরকেই হুমকি দিচ্ছে। যেন আমাদের চেতনার প্রতি হুমকি জানাচ্ছে কেউ।
এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এরা করবে না। দেশের শীর্ষ কাগজে এই সংবাদটাও ছাপেনি। আমার তো সংশয় হচ্ছে এরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আদৌ করবে কিনা। আমরা যেন ভুলে না যাই, আমরা যেন মনে রাখি- আমাদের একটা বাচ্চাকে ওরা হত্যা করে শহীদ মিনারে ঝুলিয়ে রেখেছে যেন আমরা দেখতে পাই। আমরা দেখেছি। মনে রাখবেন, ভুলবেন না যেন- শহীদ মিনারে ঝুলন্ত আমাদের এই বাচ্চাটার কথা। এ তো আমদের এই শতাব্দীর ক্ষুদিরাম যেন, ভুলবেন না ওকে। হত্যকারিদের যেন আমরা খুঁজে বের করি। কাল না হোক পরশু আমাদের সময় আসবে, আমরা হত্যাকারীদের খুঁজে বের করবো।
মনে রাখবেন না? পারবেন না এই বাচ্চাটার খুনিদের খুঁজে বের করতে? এইটুকু করবেন না?