আজ শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ইং

Advertise

মুক্তমত

নিউজ ডেস্ক

১৭ অগাস্ট, ২০২৬ ২১:৫৫

৩২ নম্বরে পুলিশের সামনে মারধর-হয়রানি, ‘গুণ্ডাকে’ গ্রেপ্তার না করায় প্রশ্ন

ইমতিয়াজ মাহমুদ

একটা গুণ্ডা বত্রিশ নম্বরের মুখে দাঁড়িয়ে লোকজনকে থামিয়েছে, ওদের ফোন কেড়ে নিয়ে সেটা খুলে নানা তথ্য দেখেছে, একাধিক লোককে মারধোর করেছে, হয়রানী করেছে- ১৫ই আগস্ট সারা দিন এটা চলেছে। এই গুণ্ডাটাকে পুলিশ গ্রেফতার করলো না। ওখানে পুলিশের একটা দল ছিল- ওরা চেয়ে চেয়ে দেখেছে আর সেই গুণ্ডাটার নির্দেশে লোকজনকে ধরে নিয়ে গেছে। একটা গুণ্ডা একজন ব্যক্তিকে মারধোর করলো, করে পুলিশকে বলল ওকে গ্রেফতার কর, পুলিশ লোকটাকে গ্রেফতার করছে। এটা ইঙ্গিত করে আমাদের দেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিরকম।


যে লোকগুলিকে গুণ্ডাটা হেনস্থা করলো, ওরা আওয়ামী লীগের সমর্থক হতে পারে। হয়তো ওরা বত্রিশ নম্বরেই যাচ্ছিল শ্রদ্ধা জানাতে। এই গুণ্ডাটাকে কে ক্ষমতা দিয়েছে এইসব লোককে মারধোর করার বা হেনস্থা করার। আপনি যদি এমনকি কোন মামলার আসামীও হন, পুলিশ আপনাকে গ্রেফতার করবে। যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের বশেই কোন কোন ক্ষেত্রে পুলিশ আপনাকে গ্রেফতার করতে পারে। কিন্তু এই গুণ্ডাকে কে ক্ষমতা দিয়েছে লোককে ধরে মারধোর করার। মানুষের গায়ে হাত তোলা তো অপরাধ। এই গুণ্ডাটা সেটা করছে পুলিশের সামনেই। পুলিশ ওকে ধরছে না।


এর মানে একদল লোক আছে বাংলাদেশে যারা আপনাকে মারতে পারবে, হাত পা ভেঙে দিতে পারবে, আপনার মোবাইল ফোন বা অন্য কোন মূল্যবান বস্তু নিয়ে নিতে পারবে- কিন্তু পুলিশ ওদেরকে গ্রেফতার করতে পারবে না। পুলিশকে সম্ভবত কেউ কেউ না কেউ নির্দেশ দিয়েছে যে এইসব লোককে ধরা যাবে না। অথবা পুলিশের মনে এই ধারণা দেওয়া হয়েছে যে এইরকম লোকগুলিকে বাধা দেওয়া যাবে না। যেভাবেই হোক, দায়িত্ব তো সরকারের। অন্যভাবে বলতে পারেন, সরকার কিছু লোককে অপরাধ করার লাইসেন্স দিয়েছে। এই হচ্ছে এই শৃঙ্খলার অবস্থা।


একজন ব্যক্তি সে যেইই হোক, আরেকজনকে ব্যক্তিকে তার রাজনৈতিক মতের জন্যে বা কোন কারণেই মারধোর করতে পারে না- এইটা হচ্ছে আইন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে কিছু লোক যাকে ইচ্ছা তাকে মারধোর করবে- এটা দৃশ্যত ঐ বিশেষ লোকগুলির জন্যে বৈধ। এটা তো কোন সভ্য সমাজে চলতে পারে না। পারে? সরকারকে জিজ্ঞাসা করেন। গুণ্ডাটাকে ধরলো না কেন? অন্তত তাকে বাধা তো দিতে পারতো পুলিশ। কেন করলো না? সরকার বলুক।

শেয়ার করূন

আপনার মতামত