Advertise
১৯ অগাস্ট, ২০২৬ ২১:৫৯
শাহরিয়ার কবির ঐতিহাসিকভাবে বামপন্থি ঘরানার একজন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা, যুদ্ধাপরাধ গবেষক এবং মানবাধিকার কর্মী। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাথে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল৷ তিনি আওয়ামী লীগ ঘরানার বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি দলের মূল ধারার অনেক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করতেন।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া, ধর্মনিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ এবং আওয়ামী লীগের ভেতরে সুবিধাবাদী ও কট্টরপন্থী অংশের অনুপ্রবেশ নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে তাঁর এমন কড়া অবস্থান বা 'চাপ সৃষ্টিকারী' ভূমিকা অনেক সময় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যে মেনে নিতে পারেনি। তবে বিএনপি এবং তার পূর্বের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তিনি আমৃত্যু সোচ্চার ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জোটের ২০০১-২০০৬ মেয়াদের শাসনকালে সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তথ্য উপস্থাপনের কারণে তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছিল। ফলে, বিএনপির রাজনৈতিক নীতি ও দর্শনের সাথে তার বিরোধ এতটাই চরম যে বিএনপি তাকে কখনই রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ বা সহ্য করবে না। কিন্তু ভিন্নমতকে সহ্য না করলে দেশ তো আগাবে না৷
আসাদুজ্জামান নূর, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, জেডআই খান পান্নাদেরও কেবল রাজনীতি দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না৷ নূরের এলাকার কোনো খুন হলেই তার দায় তাঁর উপর বর্তায় না৷ দেশে যে-কারো বিরুদ্ধেই একটা খুনের মামলা করে দিলেই যদি এমন বিপদে পড়তে হয় তাহলে ভিন্নমত বাঁচবে কীভাবে? নূরও মূলত বামপন্থি ঘরানার মানুষ এবং একজন অভিনেতা হিসেবে দেশবরেণ্য—আমাদের সংস্কৃতি জগতের অন্যতম প্রতীক৷ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বিস্তর পড়াশোনা জানা একজন খাঁটি প্রগতিশীল মানুষ৷ মৌলবাদের বিরুদ্ধে যেমন সোচ্চার ছিলেন আবার হজ ও জয়কে নিয়ে মন্তব্য করায় তাঁর মন্ত্রীত্ব চলে গিয়েছে৷ তিনি আপসহীন থেকেছেন৷ আর জেডআই খান পান্নাকে এসময়ের জাতির অন্যতম একজন বিবেক হিসেবেই বলতে পারেন৷ তিনি দল নয় মূলত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক৷ তারা চারজনই দেশের শীর্ষস্থানীয় জ্ঞানী মানুষ—আমাদের একেকজন সক্রেটিস!
এথেন্সে সক্রেটিসকে হত্যার দায় শোধ আজও হয়নি৷ পুরো গ্রিস থেকেই জ্ঞান দূরে সরে গিয়েছে৷ এরপর একইভাবে মৃত্যুর মুখে পড়েছিলেন এরিস্টটলও৷ তখন এরিস্টটল পালিয়ে যান৷ তাঁর বক্তব্য ছিলো, সক্রেটিসের মতো আরেকটি হত্যা জাতি সহ্য করতে পারবে না! নিজের জন্য নয়, দেশের জন্যই পালিয়েছিলেন৷
ড. হুমায়ুন আজাদ ও ড. অভিজিৎ রায়ের হত্যার দায় জাতি এখনও শোধ করতে পারেনি৷ রাষ্ট্র যদি নিজেই চারজন সক্রেটিসকে হত্যা করে ফেলে তবে তা কি জাতি সহ্য করতে পারবে? দায় শোধ করবে কতো দিনে?
তাঁরা চারজনই আমাদের শীর্ষ বুদ্ধিজীবী৷ তাঁদের বাঁচিয়ে রাখা, সুস্থ রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব৷ এই বয়সে তাদের বাড়িতেই থাকার ব্যবস্থা করতে হবে৷ একটু শান্তিতে রাখতে হবে৷