Advertise
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৫৬
ফ্রান্সের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাঁর এক স্ট্যাটসে ফ্রান্সকে নছিহত করে বলেছেন, ”পশ্চিমা উদারপন্থীরা বৈচিত্র্য ও মানবিকতার দোহাই দিয়ে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে নিয়ে এসেছে। কিন্তু তারা উপেক্ষা করেছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশ্ন— নতুন আসা মানুষগুলো স্থানীয় সমাজের সঙ্গে কতটা খাপ খাওয়াতে পারবে এবং তাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে। আমরা আগেই সতর্ক করে বলেছিলাম, এর পরিণতি এমন ভয়াবহ হতে পারে। কিন্তু তারা আমাদের সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেনি, এখন বোঝ কেমন ঠেলা।”
জেডি ভ্যান্সকে আর কি বলি, তিনি বিয়ে করেছেন ভারতীয় বংশদ্ভুদ উষা নামের এক নারীকে। তিনি ভালবেসেই তাঁকে বিয়ে করেছেন। সেই তিনিই তৃতীয় বিশ্বের অভিবাসীদের নিয়ে নাকসিটকাচ্ছেন! তা ভারত তখন কোন বিশ্বে ছিল?? তার চেয়ে বড় কথা, তারা যে তাদের দেশকে সম্পদশালী করেছেন, তা তো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে শোষণ ও তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করেই। সেই তিনিই কিনা তৃতীয় বিশ্ব এমন মন্তব্য করছেন।
ফ্রান্স খুব সুন্দর একটি দেশ কিন্তু সেই দেশটিকে জ্বলতে-পুড়তে দেখতে ঐতিহাসিক স্থাপনার ধ্বংস দেখেতে ভাল লাগছে না। সেই দেশের সাধারণ মানুষগুলোও অমায়িক। সেই দেশেরই মানুষের এমন উন্মাদনায় থমকে যেতে হয়। কিন্তু এই ফ্রান্সই যখন যুগ যুগ ধরে আফ্রিকার দেশগুলোকে নির্দয়ভাবে শাসন, শোষণ ও লুণ্ঠন করেছে, ত্রাস সৃষ্টি করেছে তখন মনে হয় এদের এমন শাস্তি হওয়ারই কথা। সেখানে এখনো অনেক দেশে তাদের সেই শোষন ও নিষ্ঠুরতা বন্ধ হয়নি।
জেডি ভ্যান্স যখন ফ্রান্সকে উদ্দেশ্য করে এমন কথা বলেন, তখন মনে হয় বলি আপনাদের এত আহ্বলাদিত হওয়ার কিছু নেই। কেননা আপনাদেরও প্রলয় ঘনিয়ে আসছে। তার প্রেডিকসন এখনই আপনার দেশের অনেক লিডিং ইকোনমিস্ট দিয়েছেন।
ফ্রান্সকে সে কথা না বলে, আপনারাই কি ফ্রান্সের এই পরিস্থিতি থেকে কোন শিক্ষা নিচ্ছেন?
ফ্রান্সে যা হচ্ছে, তার উপরেরটা আপনারা ভাবছেন? কিন্তু ভিতরের টা দেখছেন না, বা দেখতে চাচ্ছেন না। সেখানে মানুষ জীবনযাত্রার মান, ব্যয়, বেকারত্ব ও শিক্ষার দুরবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে।
ফ্রান্সের এই আন্দোলন দেখিয়ে দিচ্ছে, মানুষ যখন খারাপ পরিস্থিতি মেনে নিতে অস্বীকার করে তখন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করা ছাড়া আর কোন পথ থাকে না। আর তারা যখন প্রতিবাদী হয়ে ওঠে তখন তা প্রচন্ড বেপরোয়া হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, কাঠামো, কোন নিয়ম, আইন-কানুনের তোয়াক্কা করে না। তেমন পরিস্থিতিতে পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
মিস্টার ভ্যান্স নিজের দেশের দিকে তাকান। সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, বাসস্থান, চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বেকারত্ব বাড়ছে। ডেটা সেন্টার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, নানা দিকে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক কাঠামো ভেঙে পড়ছে। জ্বালানির দাম বাড়ছে, দখল, আগ্রাসন, দুর্নীতি তো চলছেই। আর এপস্টেইনের কথা কি ভুলে গেলেন?
এমন পরিস্থিতিও আপনার দেশের অধিকাংশ মানুষ নীরব। তাঁরা নিরবে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তুমুল গর্জে উঠছে না, কার্যকর প্রতিবাদ করছে না। কিন্তু হতে কত ক্ষন?
আমি আশা করি না, ফ্রান্সের মত এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি হোক। সহিংসতা, রক্তপাতই সব সমস্যার সমাধান নয়। কিন্তু ক্ষমতাসীরা যখন জবাবদিহির উপরে ওঠে তখন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও অন্যায় মনে করেন, উৎপাত মনে করে। ক্ষমতাবানদের কাছে যদি জনগণের দাবির মূল্য হয় শূন্য তখন জনগণ অপমানিত হয়। গণতন্ত্রে মানুষের নীরবতাও অনেক সময় অনেক বড় প্রলয়ঙ্করি শক্তি।
মি: জেডি, ফ্রান্সকে ছবক না দিয়ে সেখান থেকে শিক্ষা নিন, আপনারা ঘুমন্ত আগ্নেয়গিড়ির উপর বসে আছেন। জনতার ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠকে উপেক্ষা করতে পারে এমন ক্ষমতা কারো নেই, কখনো হয়নি, হবেও না।