Advertise
৩১ অগাস্ট, ২০২৬ ২২:২৪
ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ব্যবস্থাপক হিসাব রক্ষক বা ব্যবসায় প্রশাসক এই ধরেনর বিশেষজ্ঞ যারা আছেন, আপনারা কি বলতে পারবেন ১১০ মিলিয়ন বা এগারো কোটি ডলারে আপনি ঢাকা শহরের বাইরে কয়টা আধুনিক হাসপাতাল বানাতে পারবেন? অথবা উপজেলা বা জেলা পর্যায়ে যেগুলি হাসপাতাল আছে, সেগুলির কয়টাকে আইসিইউ, সিসিইউ, যন্ত্রপাতি পরীক্ষা নিরীক্ষা ইত্যাদি যুক্ত করে স্বয়ংসম্পুর্ন হাসপাতালে পরিণত করতে পারবেন? আপনাদের কি মনে আছে হামে যখন শিশু মৃত্যু শুরু হয় তখন একটা বিভাগীয় শহরে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু হচ্ছিল আইসিইউ সুবিধা ছিল না বলে।
কেন একশ দশ মিলিয়ন ডলারের কথাই বলছি? কারণ খবরে দেখলাম আমরা নাকি চীন থেকে বিশটা যুদ্ধবিমান খরিদ করতে যাচ্ছি। কৌতূহলী হয়ে জেমিনিকে জিজ্ঞাসা করলাম, একেকটা প্লেনের দাম কত? জেমিনি জানালো প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২.৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ হাজার থেকে ২৮ হাজার কোটি টাকা)। তাতে করে একেকটা বিমানের পেছনে খরচ হবে ১১০ মিলিয়ন ডলারের একটু বেশী। এক ডলার সমান কমবেশি ১২৪ টাকা হিসাব করে আপনি এই ডলায়ের পরিমাণটা তাকায় কত হয় বের করে দেখেন। আমি একটু দুর্বল চিত্তের মানুষ, রক্তচাপের সমস্যা আছে।
হাসপাতালের কথা বললাম শুধু। এই পরিমাণ টাকা তো আপনি প্রাথমিক শিক্ষায়ও ব্যয় করতে পারেন, কৃষিতে অথবা নেহায়েত শিল্পোন্নয়ন খাতে অথবা অবকাঠামো নির্মাণে। কতো কিছু করা যায়! আমরা সকলের জন্যে বিদ্যুৎ দিতে পারছি না, সকলের জন্যে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারছি না, কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার জন্যে বাচ্চাদের ডে-কেয়ার সেন্টার বানাতে পারছি না। উন্নত রেলসেবা নিশ্চিত করতে পারছি না। সকলের জন্যে গৃহায়নের ব্যবস্থা করতে পারছি না। স্কুলের বাচ্চাদের সকলের জন্যে ভালই একটা লাঞ্চের ব্যবস্থা করতে পারছি না। আরও কত কি! যুদ্ধ বিমান কি এতোই জরুরী?
আর আমরা কি আসলেই কোন বড়সড় যুদ্ধের কথা ভাবছি যে আমাদের সামরিক সরঞ্জামের পেছনে এতো খরচ করতে হবে? আপনি একবার যখন এগুলি জিনিসপত্র কিনতে থাকবেন, সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করবেন, পরে তো আর সেটা থেকে বেড় হতে পারবেন না। বছর বছর আপনাকে এইসব খরচ চালিয়ে যেতে হবে। পাকিস্তানের দিকে তাকান। ঐদেশের মানুষ খেতে পায় না, কিন্তু বিশাল একটা মিলিটারই বানিয়ে রেখেছে আর ওদের জন্যে গুচ্ছের তাকা খরচ করে। ভিক্ষে করে তাকা এনে সেই টকায় কামান বন্দুক কেনে বেওকুফগুলি। আমরাও সেই পথে যাবো?