আজ শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

Advertise

মুক্তমত

নিউজ ডেস্ক

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০১

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সাভারে যে মাদ্রাসায় সাত বছরের একটি শিশুকে সেই মাদ্রাসার শিক্ষক এবং সিনিয়ার ছাত্ররা ক্রমাগত ধর্ষণ করেছে সেই মাদ্রাসাটির নাম সাভারের পূর্ব শাহীবাগ এলাকায় অবস্থিত ‘মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসা’। এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম (প্রধান) হলেন শাইখুল হাদিস আল্লামা জিয়া বিন কাসেম। সাত বছরের সেই শিশুটির পিতা মামলা করেছে এক সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। দশজন মামলার এজাহারে দশজন আসামীর নাম স্পষ্ট করে উল্লেখ করা আছে। এই আট দিনে সাভারের পুলিশ আসামীদের কাউকে ধরেনি, চেষ্টাও করেনি।


মামলার আট দিন পর সাভার পুলিশ আসামী গ্রেফতারের জন্যে গতকাল বিকালে অভিযান চালিয়েছে সাভারের মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসায়। ওসি সাহেব পুলিশ নিয়ে গেছেন মাদ্রাসায়, কিছুক্ষণ সেখানে থেকেছেন, খাতা পত্র দেখেছেন, চা নাস্তা কি খেয়েছেন জানিনা, দুই একজন ছাত্রের সাথে কথা বলেছে। জিজ্ঞাসা করেছে আসামীরা কেউ আছে কিনা, সবাই বলে দিয়েছে যে না ওরা নাই। পুলিশ আবার চলে এসেছে। ও ভাই, মামলা হয়েছে আটদিন আগে, মামলার খবর কাগজে এসেছে, লোকজন ফেসবুকে লিখছে, আলোচনা হচ্ছে- আসামীরা হোস্টেলে ঘুমিয়ে থাকবে?


ধরতে চাইলে ধরা যায়। কেন রিপোর্টাররা তো ঠিকই মাদ্রাসার প্রধান শাইখুল হাদিস আল্লামা আল্লামা জিয়া বিন কাসেমের সাথে যোগাযোগ করেছে, ওর সাথে কথা বলেছে। পুলিশ কেন তাকে ধরতে পারছে না? ঐ লোক নিজেও তো আসামী। সে নাকি পালিয়েও থাকছে না। উল্টো শিশুটির পিতাকে নাকি এই আল্লামা হুমকিও দিয়েছে, বলেছে চুপ থাকতে নালে অসুবিধা হবে। ওকে ধরছেন না কেন? আর সংবাদকর্মী বন্ধুরা, আসামীদের ছবি বের করে ওদের ছবি প্রকাশ করেন, আল্লামা জিয়া বিন কাসেমের ছবিও প্রকাশ করেন। আমরাও দেখি ওদের সুরত।


শোনেন, শিশুদের রক্ষার জন্যে একটু আন্তরিক হতে হয়। দায়িত্ব নিতে হয়। একটা শিশুকে অত্যাচার করে ধর্ষকরা ঘুরে বেড়াবে আর পুলিশ ওদেরকে ধরবে না ছোঁবে না এটা কোন সভ্য দেশের অবস্থা হতে পারে না। একটা শিশু তো কেবল ওর পিতামাতার সন্তান মাত্র নয়, সে আমাদের সকলের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী। শিশুদের সাথে যারা এইস্রকম করবে ওদের ধরতে কেন আপনারা দ্বিধা করবেন?

শেয়ার করূন

আপনার মতামত