আজ শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

Advertise

মুক্তমত

মুজিব রহমান

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:৫০

কেনো ওরা এভাবে বলাৎকারে লিপ্ত?

আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে শৈশবে মাদ্রাসায় পাঠালে সে প্রথম রাতেই বলাৎকারের শিকার হয়৷ এমন কয়েকদিন চলার পরে সে পালায়৷ তার পিতা ছিলেন কঠোর৷ তিনি সাত পুত্রের ছোটজনকে আলেম বানাবেন৷ তাই পুত্রকে নিয়ে আবারও গেলেন৷ বড় হুজুরের সাথে সাক্ষাৎ করে আরেক শিক্ষক হুজুরের সাথে থাকার ব্যবস্থা করলেন৷ ওকে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হতো যাতে পালাতে না পারে৷৷ রাতে সেই হুজুরও ওকে বলাৎকার করে এবং প্রতিরাতেই ঘটতে থাকে৷ কদিন পরে বড় হুজুর আবারও বিয়ে করলে সবাইকে ভালো খাবার দেয়৷ ওর শিকলও খুলে দেয়৷ রাতে যথারীতি বলাৎকারের শিকার হয়৷ হয় ভুলে না হয় বড় হুজুরের বিয়ের খুশিতে না হয় বিশ্বাসে রাতে শিকল দেয়নি৷ সেই সুযোগে বন্ধুটি আবারও পালায়৷ এবার তার পিতা প্রহার করে৷ তার এক কাজিনকে দিয়ে সাইকেলে করে পাঠায়৷ রাস্তায় ও সাইকেলের গিয়ারের ভিতরে পা ঢুকিয়ে দেয়৷ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলে তার পিতা জানতে চায়, তোর সমস্যা কী? বন্ধুটি সাহস সঞ্চয় করে বলে, 'হুজুর রাতে আমার সাথে আকাম করে৷ আগে বড় ছাত্ররা করতো৷'


বন্ধুটি এখন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে৷ এই ঘটনা প্রায় ৫০ বছর আগের৷ অর্থাৎ সেটা দীর্ঘকাল ধরেই চলে আসছে এবং এটা ওখানকার সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে৷


সম্প্রতি সাভারে একটি মাদ্রাসায় সাত বছরের শিশুকে প্রথমে মাদ্রাসার টয়লেটে সিনিয়র এক ছাত্র বলাৎকার করে৷ বলাৎকারের বা ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর এ ঘটনা জেনে শিশুটিকে অন্য সিনিয়র ছাত্ররাও ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি যেসব শিক্ষকের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে গেছেন তারাও সুযোগ নিয়ে আবার তাকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছে। কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়েছে। টানা কয়েক মাসের ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুটি এখন বাসায় অস্বাভাবিক আচরণ করছে, সারাক্ষণ কান্নাকাটি ও চিৎকার করে। ঘটনা জানতে পেরে অভিভাবকরা শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করিয়েছেন। মামলার আসামিদের একজন ও মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা জিয়া ইবনে কাসেম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘ওরা ছোট ছোট বাচ্চা। নিজেরা নিজেরা এগুলো করে।’ এরমানে হলো ওখানে এসব ওপেন সিক্রেট। পাঁচজন গ্রেফতার হলেও বাকিরা পলাতক৷ এ ঘটনার পরও দেশে বহু বলাৎকারের ঘটনা হুজুরগণ ঘটিয়েছেন৷ তারা থামবেন না অর্থাৎ থামতে পারবেন না৷ কেনো তারা এমনটা করেই যাচ্ছেন?


আমাকে একটি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বলেছিলেন, ‘আমার ওখানে সবাই এসব নিয়েই থাকে। আমি না পারছি থামাতে, না পারছি মাদ্রাসা বন্ধ করতে৷ কিছু বললেই বলে, মাদ্রাসায় এসব হয়ই৷ গোপন করেন, পরকালে আপনার দোষ আল্লাহ গোপন করবেন।’ কেনো এমন ভয়ানক অবস্থা? সমাজের ভিতরেও একটা অ্যালগরিদম থাকে। সেটা আপনাকে বার্তা দেয়, এটাই সমাজ, এটা এমনই হবে। ফলে ওখানকার শিশুরা নিশ্চিত হয়, বলাৎকারই জীবন। ভাবে পৃথিবীর সবখানে এমনই হয়। সারাবিশ্বই বলাৎকারে লিপ্ত। ফলে ওরা ওই সার্কেল থেকে বের হতে পারে না। এর বাইরে কেউ গেলেই সে আর আমরাতে থাকে না, হয়ে যায় ওরা মানে তোমরা মানে শত্রুরা। এভাবেই নৈতিকতার ভিতরে তৈরি হয় ভিন্নরকমের নৈতিকতা (তাদের ভাবনায়)। তাহলে কেউ কেউ বিগড়ে যায় কেনো? ওই ছেলেটি নতুন এবং এমন পরিবেশে সে অ্যাডজাস্ট করতে পারেনি। আবার বাড়িতেও দেখেছেন, এমনটা হয় না। ফলে মাদ্রাসার বাইনারি ভাঙার চেষ্টা সে করেছে।


শুরু থেকেই এই সিস্টেমে যারা ঢুকে যায় তারা এটাকে স্বাভাবিক ধরে নেয়৷ আমার ওই বন্ধু বলেছিলো, 'বাতি নেভানোর পরেই সবাই এসবে লিপ্ত হয়ে পড়তো৷' ওরাও জানে এটা গুনাহ! আবার ওরা জানে এমন ছোটোখাটো গুনাহ থেকে মাফ পাওয়ার পথ৷ ওরা দুটোই চালাতে থাকে৷ ফলে এগুলো পর্ণগ্রাফি বা মাদক বা জুয়ায় আসক্তির মতোই আরেক আসক্তিতে পরিণত হয়েছে৷ ফলে আমার বন্ধুকে ৫০ বছর আগে শিকার হয়েছিলো যে বয়সে আজও সে বয়সের হাজার হাজার শিশু বলাৎকার বা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে৷ এই সিস্টেমে এটাকে ওরা ওদের সংস্কৃতির অংশ হিসেবেই ধরে নিয়েছে৷ আজকে বলাৎকারের শিকার শিশু কালকে বলাৎকারী হয়ে উঠছে৷ কেবল দুএকজন মিসফিট হয় বলেই ঝামেলা তৈরি হচ্ছে৷

শেয়ার করূন

আপনার মতামত