Advertise
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:৫২
হুমায়ুন আজাদকে গালি দেওয়া এবং তাঁকে নিয়ে মিথ্যাচার করা সহজই কিন্তু সেটা তথ্যপ্রমাণ দিয়ে করা যে কঠিন তা পিনাকী আবারও প্রমাণ করলেন৷ তিনি দাবি করলে আজাদের বাক্যতত্ত্ব নকল কিন্তু কোন বইয়ের নকল সেটা বলতে পারলেন না৷
বাক্যতত্ত্ব কোন বইয়ের নকল যে নয়, সেটা তিনিও প্রমাণ করলেন৷ Pronominalization in Bengali নিয়ে আজাদ পিএইচডি করেছেন৷ সে বই-ই এটা৷ অভিসন্দর্ভ লিখতে গেলে বিস্তর রেফারেন্স লাগেই সেটাকে তো নকল বলা যায় না৷ এসব প্রতারণামূলক মিথ্যাচারের কী জবাব দিবো?
এই বইটির মাধ্যমেই বাঙালি পাঠক ও গবেষকরা প্রথম নোয়াম চমস্কির রূপান্তরমূলক সৃষ্টিশীল ব্যাকরণ এবং আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের সাথে গভীরভাবে পরিচিত হন। বইটি 'Pronominalization in Bengali' (বাংলা ভাষার সর্বনামকরণ)-এর কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে রচিত।
আরেকটি ফ্যালাসি করেছেন এবং সেটাও প্রতারণামূলক৷ হুমায়ুন আজাদ ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল ও প্রবচনগুচ্ছে লিখেছেন, 'পাকিস্তানিদের আমি অবিশ্বাস করি, যখন তারা গোলাপ নিয়ে আসে, তখনও।' পিনাকীর খুব লেগেছে? বাস্তবিক লাগেনি৷ তিনি তার উম্মতদের খুশি করতে বলেছেন বা আহা-উহু করেছেন৷ তিনি লিখেছেন, 'ভার্জিলের ঈনিডে লাওকোওন ট্রোজান হর্সের সামনে দাঁড়ায়ে ল্যাটিনে চিল্লাইসিলো, Timeo Danaos et dona ferentes. (তিমেও দানাওস এত দোনা ফেরেন্তেস।) গ্রিকদের আমি ভয় পাই, উপহার হাতে আসলেও পাই। তারপরে লাওকোওন একটা বর্শা মারসিলো ঘোড়ার পেটে। একটা ফাপা শব্দ হইসিলো। কাম হয় নাই। ট্রোজানেরা সাবধানবানী শুনে নাই ঘোড়াটাকে নগরের ভিতরে নিয়া গিয়া মারা খাইসিলো।' এখান থেকেই নাকি আজাদ তাঁর উক্তিটি নকল করেছেন৷
এমন আবর্জনা পিনাকীর পক্ষেই লেখা সম্ভব৷ ধরলাম আজাদ ওই মহাকাব্য পড়েই লিখেছেন৷ সাহিত্যের পরিভাষায় এটিকে বলা হয় একটি ধ্রুপদী উক্তির আধুনিক বা স্থানীয় প্রেক্ষাপটে পুনর্নির্মাণ। তাহলেও বলতে হয়, হুমায়ুন আজাদ এখানে মূল উক্তির উপাদানগুলোকে চমৎকারভাবে বদলে দিয়েছেন৷
তাতে 'পাকিস্তানিদের আমি অবিশ্বাস করি, যখন তারা গোলাপ নিয়ে আসে, তখনও'—এই প্রবচনের গুরুত্ব কমে যায় না। একাত্তরে পাকিস্তানিদের প্রতারণা ও বর্বরতার কারণেই তারা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন৷ আজাদের প্রবচনটি কালোত্তীর্ণ এবং গ্রীকদের ঘটনার এবং সে প্রেক্ষিতে বক্তব্যের সাথে মিল অতি সামান্যই৷ এমনটা সাহিত্যে অহরহই হয়৷ ওই ঘটনা থেকেই এটি এসেছে এমন দাবি যুক্তিনির্ভর নয়৷ হুমায়ুন আজাদের অসংখ্য প্রবচনই কালোত্তীর্ণ হয়েছে৷ টেবিলের চার পা দেখে সেটিকে গরু বলা পিনাকীর পক্ষেই সম্ভব৷ কিন্তু উগ্রপন্হিদের ভণ্ড গুরু পিনাকীর উদ্দেশ্য জনপ্রিয়তা পাওয়া৷ এজন্য তার মূর্খ মুরিদদের খুশি করার জন্যও হুমায়ুন আজাদকে নিয়ে মিথ্যাচার করা ছাড়া উপায় নেই৷