Advertise
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ১৪:৪৮
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন জো বাইডেন। হোয়াইট সুপ্রীমিস্টরা এটাকে দেখছে তাদের নীতির পরাজয় হিসাবে। এটা আরও পরিস্কার হয়েছে নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পের নানা উদ্ভট আচরণের ভেতর দিয়ে। শপথ নেওয়ার পরপরই বাইডেন কয়েকটি মুসলিম দেশে ভ্রমণের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা তুলে নিয়েছেন। নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন অবৈধ অভিবাসীদের ধাপে ধাপে বৈধ করে নেবেন।
অনেকেই বিপুলভাবে আশাবাদী এবার বুঝি বৈশ্বিক শান্তির সুবাতাস বয়ে যাবে।তবে অতীত অভিজ্ঞতায় আমি অতটা আশাবাদী হতে পারছিনা। আমার মনে পড়ছে জুনিয়র বুশ এ তার পরবর্তী তথাকথিত শান্তির পায়রা ওবামার শাসনামলের তুলনার কথা। নাইন ইলেভেনের ঘটনার পরপরই মুসলিম বিশ্ব ও আমেরিকার মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চূড়ান্তে ওঠে। ওই ঘটনার পরপরই বুশ ওয়ার অন টেরর পরিকল্পনা ঘোষণা করে ইরাক ও আফগানিস্তানে হামলা করেন।
এত দিন পরে এটা জানাজানি হয়েছে যে নাইন ইলেভেন ঘটনার আগেই বুশের ওয়ার অন টেরর পরিকল্পনা প্রস্তুত ছিল। ইরাক ও আফগানিস্তানে রক্তের বন্যা বয়ে যায়। সারা বিশ্বে বুশ যুদ্ধবাজ হিসাবে পরিচিতি পান। এক সময় বুশের যুগ শেষ হয়ে হোয়াইট হাউসে আসেন নন হোয়াইট বারাক ওবামা। শপথ নেওয়ার কিছুদিন পরেই তিনি মিশর ভ্রমণে গিয়ে এক বক্তৃতায় মুসলমানদের সম্পর্কে অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। তার এই বক্তৃতার ফলে আমেরিকা ও মুসলিম বিশ্বের ভিতরে বিদ্যমান টানটান স্নায়বিক উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমিত করে।
চারিদিকে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়ে যায় ওবামা শান্তির বাণী নিয়ে এসেছেন। তথাকথিত শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার জন্য ওবামা এমনকি একটা নোবেল প্রাইজও বাগিয়ে নেন। এক সময় ওবামার যুগও শেষ হলো। বুশ ওবামার ভেতর তুলনা করে দেখা গেল দুজনের ভেতরে ওবামা বুশের চেয়ে অনেকগুণ বেশি রক্ত ঝরিয়েছেন। ওবামার সময়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ড্রোন হামলায় সিভিলিয়ান হত্যার ঘটনা ছিল নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। অথচ যুদ্ধবাজ হিসাবে পরিচিতি পেলেন বুশ আর ওবামা পেলেন নোবেল।
আসলে বুশের চেয়ে অনেক বেশি চালাক ছিলেন ওবামা। শান্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অজস্র রক্তপাত ঘটালেও নিজের ভালোমানুষির মুখোশটি তিনি বজায় রাখতে পেরেছিলেন। আমার ধারণা জো বাইডেন ওবামার পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন। চীন ও তুরস্কের ব্যাপারে কঠোর নীতি গ্রহণের কথা তিনি নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই বলে আসছেন। বৈশ্বিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে এই মুহূর্তে এর থেকে আর বেশি কি দরকার ?
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার ঘোষণা দিয়েছেন আমেরিকার অর্থনীতি চাঙ্গা করার স্বার্থেই। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনকিছুই বিনা স্বার্থে হয় না। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের শেখরা আমেরিকায় গিয়ে ফুর্তির নামে যে মিলিয়ন ডলার খরচ করত সেটা চলে যাচ্ছিল অন্য দেশে। এমনকি শেখরা আমেরিকায় নতুন বিনিয়োগ করতে ইতস্তত করছিল। তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা দরকার ছিল।
আমেরিকায় পণ্য উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চিনা পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনা। পণ্য উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে হলে অনেক বেশি সস্তা শ্রমিক দরকার। অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করা সেই প্রয়োজনেই।হোয়াইট হাউসের চেয়ারে অনেক পুতুল আসা যাওয়া করতে দেখলাম। কিন্তু আমেরিকার পররাষ্ট্র বা বৈদেশিক নীতির কোন পরিবর্তন হতে দেখিনি। বারাক ওবামার প্রাক্তন রানিংমেট জো বাইডেনের এসব নীতি পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা নেই।
আসলে অতীতেও কোন প্রেসিডেন্টের এই ক্ষমতা ছিল না। এই সব নীতি যারা নির্ধারণ করেন তারা বরাবরই পর্দার আড়ালে থাকেন। এবং পর্দার আড়াল থেকেই তাদের পছন্দের প্রার্থীকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত করেন। মুসলিম বিশ্বের যারা আল্লামা জো বাইডেনকে নিয়ে মনে মনে অনেক সুখ স্বপ্ন দেখছেন তারা শীগ্রই হতাশ হবেন।