আজ রোববার, ০২ অগাস্ট ২০২৬ ইং

Advertise

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

২৯ অগাস্ট, ২০২৪ ২০:৩৯

বিয়ানীবাজারে ৫ আগস্টের ভয়াবহতা


৫ আগস্টের সকাল থেকে দেশবাসী একদরনের চুড়ান্ত ভয়াবহতা দেখার জন্য অপেক্ষায় ছিলো, কখন কি হবে। দেশের সকল মানুষের ভিতরে একরকম ভীতির কাজ করছে, কবে কখন কোথায় শত-সহস্র ছাত্র-জনতা রাস্তায় শহিদ হবে, ভয়মিশ্রিত শংক্ষা নিয়ে সবাই ঢাকার খবরের দিকে চেয়ে আছে, এদিকে পলেকের অপলক ইশারায় গত কয়েক দিন থেকে ইন্টারনেট বন্ধ, টিভির প্রচার সীমিত, স্বৌরাচার সরকার সকল প্রচার মাধ্যমের উপর খড়গ বসিয়ে বাক স্বাধীনতা খর্ব করে রাখে।

রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি যোগাযোগ মন্ত্রীর কয়দিন আগে ছাত্রলীগের হেমলেট বাহিনীকেও আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য রাস্থায় নামার নির্দেশ দেন। ঢাকার রাস্থায় দেখা যায় পুলিশের সাথে দলীয় বাহীনির আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নিরস্ত্র ছাত্র- জনতার উপর পাশবিক- অমানবিক একপেশে গুলি, সাথে বর্বর যুগের চাপাতিও।

এদিকে ৪ তারিখ থেকে যেহেতু আর্মি বলছে তারা জনগণের জীবন রক্ষার জন্য রাস্তায় থাকবে সেই খবর অনেকের ভিতরে আশার বাণী মনে হয়েছিলো। ৫ তারিখ তারা তাই করলো। এক সময় ছাত্র-জনতা গণভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে আর স্বৈরাচারের পতন ঘন্টা ঘনিয়ে আসছে , এদিকে খবর আসছে সেনা প্রধান জাতীর উদ্ধেশ্যে ভাষণ দিবেন, ২ টায় সময় পরিবর্তন হয়ে ঘন্টায় ঘন্টায়। এদিকে স্বৈরাচারী হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনা যাচ্ছে, আবার ৪ টায় সেনাপ্রধান ভাষন দিবেন।


অনেকটা স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিতের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে আর শহর-বন্দর জনমানুষের মুক্ত স্বাধীন চরাচর দেখা যাচ্ছে। তার ধারাবাহিকতাও আমাদের বিয়ানীবাজারে ছিলো। দেড় যোগের পর যেন নিজের মাটিতে মন খুলে নির্ভিগনে অনেক বিরোধী রাজনৈতিক নেতা কর্মীকে দেখা গেছে। অপরদিকে সরকার দলের নেতাকর্মীদের বাজার থেকে নিরবে-নির্বিগ্নে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতেও দেখা গেছে। আসাযাওয়ার মাঝে শহরে ছোট ছোট আনন্দ মিছিল দেখা গেলো, প্রায় ঘন্টাখানেক এরকম বিচ্ছিন্ন মিছিল আর মিছিল, পরে বিএনপি তার নেতাকর্মী নিয়ে দলীয় মিছিল দিচ্ছি , একই সময় শিবির-জামায়েত তারা ছাত্র-জনতার সাথে মিশেগিয়ে মিছিল দিচ্ছে,

পরের অরাজনৈতিক মিছিলে আবার আস্তে আস্তে দেখা যাচ্ছিল সেই চিরচেনা বাশ-লোহার রডসহ অনেকের হাতে কিছুনা কিছু আছে, সময় যাচ্ছে মিছিলের রুপ হিংশ্রতায় রুপ নিচ্ছে, কিছুক্ষণের মধ্যে আওয়ামীলীগের কয়েকজনের অফিস ভাঙচুর শুরু হচ্ছে, প্রতিশুধ আর প্রতিহিংসার স্বরুপ বিয়ানীবাজারবাসী প্রত্যক্ষ করল একে একে প্রায় ৮/৯ টি অফিস ভাঙা হয়। তবে এখানে পরিচিত দলের নেতা কর্মী দেখা যায়নি, কিছুক্ষকণ পরে বিয়ানীবাজার থানায় হামলা, লোটপাট হয় গুলি হয় মানুষ মরে।

শেয়ার করূন

আপনার মতামত