আজ রোববার, ০২ অগাস্ট ২০২৬ ইং

Advertise

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

০৭ মে, ২০২০ ০৪:০৪


সর্বশেষ আপডেট :
০৭ মে, ২০২০ ০৪:০৭

বাংলাদেশ মহামন্দা প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে

সামাজিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা রয়েছে


বিশ্বে করোনা ভাইরাসটি পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণে এখনও আসেনি। মে পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৩ লাখ অতিক্রম করেছে। আর মারা গেছেন ২ লাখ ৩৫ হাজারের বেশী। এ ভাইরাসটি পৃথিবীর ২১০টি দেশ ও অঞ্চলকে আক্রান্ত করেছে। ছড়িয়ে গেছে বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলে। এখন যে প্রশ্নটি উঠেছে, তা হচ্ছে এর প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব কি আরেকটি মন্দা প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে? ইতোমধ্যে গবেষকরা সম্ভাব্য একটি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কথা বলেছেন। উৎপাদন ব্যবস্থায় ধস, বেকার সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়া, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হ্রাসের যে চিত্র অর্থনীতিবিদরা উপস্থাপন করেছেন, তা বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের চিন্তার খোরাক জোগাবে যথেষ্ট। বাংলাদেশও এর বাইরে থাকবে না। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদেরও দীর্ঘমেয়াদি স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করতে হবে।

আমরা করোনাভাইরাসজনিত সংকটকে ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার (Great depression) সঙ্গে তুলনা করতে পারি। এ মহামন্দায় আক্রান্ত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্টক মার্কেট। তারপর তা সব দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯২৯ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের স্টক মার্কেটের পতনের পরই এ মহামন্দার সূত্রপাত হয়। স্টক মার্কেটের পতনের মধ্য দিয়ে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী মুহূর্তের মধ্যে নিঃস্ব হয়ে যান, তারা সবকিছু হারিয়ে গরিব হয়ে যান। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় এবং হাজার হাজার লোক বেকার হয়ে যায়। শিল্প উৎপাদনে ধস নামে। ১৯৩৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১৫ মিলিয়ন অর্থাৎ দেড় কোটি মানুষ বেকার হয়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যায়।


সর্বশেষ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩-২ শতাংশে নেমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়। এর মানে হচ্ছে, দেশের ক্রমবর্ধমান বেকার জনসংখ্যার সাথে করোনা পরবর্তী লাখ লাখ কর্মহীন মানুষ যোগ হবে। প্রায় একমাস ধরে লকডাউন করোনাভাইরাসের প্রাণঘাতী সংক্রমণের ভীতি অগ্রাহ্য করেই সারাদেশে লাখ লাখ মানুষকে খাদ্য সহায়তার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর কড়াকড়ি তাদেরকে ঘরে আবদ্ধ রাখতে পারছে না। করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা, বেকারত্ব ও দরিদ্র মানুষের ন্যূনতম খাদ্য নিরপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা না গেলে দেশে সামাজিক বিশৃঙ্খলা নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।


শুধুমাত্র প্রবাসী কর্মীদের রেমিটেন্স এবং গার্মেন্ট রফতানি থেকে প্রাপ্ত আয়ে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও নতুন কর্মসংস্থানের সংকট ছিল। চলমান করোনা সংকট কতদিন প্রলম্বিত হয়, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে করোনা পরবর্তী সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকট মোকবেলায় এখনই সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য ও অর্থসহায়তার খাত খুব সন্তোষজনক নয়। যতটুকু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাতেও প্রশাসন ও সরকারি দলের লোকদের বিশৃঙ্খলা, অস্বচ্ছতা ও লুটপাটের শিকার হওয়ার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

সরকারি খাতে লুটপাটের ধারাবাহিক প্রবণতা থেকে বের করতে না পারলে আগামীতে বড় ধরনের সামাজিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশের তহবিলে প্রাপ্য আদায় করার পাশাপাশি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের অর্থনীতিবিদদের মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এবং দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বিশেষ নজর দিতে হবে। তা না হলে আমরা মহামন্দায় আক্রান্ত হব।

শেয়ার করূন

আপনার মতামত