আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ইং

Advertise

সমগ্র দেশ

নিউজ ডেস্ক

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৮

সাগর-রুনি হত্যা মামলায় রোকেয়া প্রাচীর নাম এলো যেভাবে

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর নাম কীভাবে এলো, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বাড়ি থেকে জব্দ করা ডিভাইসে রোকেয়া প্রাচীর নাম পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার তানভীর হাসান জোহা এর আগে এ তথ্য জানিয়েছিলেন। তবে ওই তথ্যের সঙ্গে সাগর-রুনি হত্যা মামলার সংশ্লিষ্টতা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি গুমের মামলার তদন্তে কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করতে গিয়েও নতুন তথ্য পাওয়া যায় বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর মধ্যে যোগাযোগ এবং দুটি ডিস্ক সংগ্রহের বিষয়টিও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত হয়েছে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের তদন্তসংক্রান্ত প্রতিবেদন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই-বাছাই ও তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে টাস্কফোর্সকে আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে মামলার তদন্তে পাওয়া নতুন তথ্য সম্পর্কে জানতে তানভীর হাসান জোহাকে ওই দিন আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। সাগর-রুনির পরিবারের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করা হয়েছে। জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাড়িতে নথিপত্র জব্দের সময় প্রায় ৩০০টি সিডি উদ্ধার করা হয়েছিল।

সেগুলো যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে টাস্কফোর্সের আরও সময় প্রয়োজন।তিনি বলেন, জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, তা সরাসরি তানভীর হাসান জোহার কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এ কারণে তাকে আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় আদালত রুদ্ধদ্বার শুনানিতে তার বক্তব্য শুনবেন।অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, তদন্তে কারও নাম বা সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসা মানেই অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া নয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তদন্তের ফলাফল ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।টাস্কফোর্সকে একাধিকবার সময়এর আগে গত ২৬ এপ্রিল তদন্তের অগ্রগতি জানাতে টাস্কফোর্সকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছিল।

গত বছরের ২৩ অক্টোবরও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্তের জন্য টাস্কফোর্সকে ছয় মাস সময় দেন হাইকোর্ট। র‍্যাবকে সরিয়ে টাস্কফোর্স গঠন২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। এতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করা হয়।টাস্কফোর্সের অন্য সদস্যদের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) থেকে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তা এবং র‍্যাবের পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা রয়েছেন।১৪ বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।

পরদিন সকালে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে থানার একজন কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করেন। একই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তদন্তের দায়িত্ব পান গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের পরিদর্শক মো. রবিউল আলম। দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলার তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবিতে জনস্বার্থে রিট করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলে সাগর-রুনি হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।মামলার বাদীপক্ষের আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

শেয়ার করূন

আপনার মতামত